সিল্করুট যাত্রা's image
Short StoryArticle4 min read

সিল্করুট যাত্রা

Somsubhra DeSomsubhra De September 19, 2022
Share0 Bookmarks 226 Reads1 Likes

দেখলাম ঘড়ির কাঁটায় তখন সবে মাত্র চারটে। ভীষণ ঠান্ডা। কিছুতেই ঘুম আসছেনা। কেমন যেন একটা দম আটকানো অনুভূতি - সে বলে বোঝানো যাবেনা। উঠে বসতে চলে যাচ্ছে আবার যেই শুয়ে পড়ছি অমনি অদ্ভুত অস্বস্তিভাব। যাইহোক মা এর দিকে তাকালাম। দিব্বি ঘুমোচ্ছে। বাবা যদিও মাঝে মাঝেই একবার এদিক আরেকবার ওদিক ফিরে ঘুমোনোর চেষ্টা চালাচ্ছে। 

অবশেষে ঘুম এলো বেশ অনেক্ষন পর। ঘুম ভাঙলো যদিও নিজে থেকেই এবং অনেক আগেই। বাড়িতে থাকা আর বেড়াতে যাওয়ার মধ্যে অনেক তফাৎ। কোথায় এসেছি ? পূর্ব সিকিম এর এক অপরূপ সুন্দর গ্রাম 'জুলুক' এ। স্যার বলেছিলেন তিনি নাকি বন্ধুদের সাথে ডিসেম্বর মাসে এখানে এসেছিলেন। না! ডিসেম্বর এ একবার আসতেই হবে। এখনই প্রায় কাঁপিয়ে দিচ্ছে , তাহলে তিন মাস আগে তো ভয়ঙ্কর ঠান্ডা নিশ্চয়ই। আসার সময় সারাটা রাস্তা জুড়ে প্রচুর বরফ দেখতে পেয়েছি - তখন তাহলে বরফ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবেনা! আমার মতো প্রকৃতি প্রেমিক দের জন্য এক্কেবারে 'আইডিয়াল' পরিবেশ। সক্কাল সক্কাল গরম চাউমিন দিয়ে গেছে - এই এলাকায় লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। আমরা ছাড়া আর মাত্র একটি পরিবার - তারাও কলকাতার। আমাদের ই মতন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতেই বেরিয়ে পড়েছে প্রকৃতির টানে। হ্যাঁ যা বলছিলাম, চাউমিন খেয়ে কফি এর জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে গরম খাবার পাঁচ মিনিটেই ঠান্ডা হয়ে যায়। কোনোভাবে আরেকটা জ্যাকেট পরে লেপ এর ভেতর থেকে বেরোলাম - উফ! নিঃশ্বাস টাও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। 'গ্লাভস' টা খানিকক্ষণের জন্য খুলে রাখলাম নাহলে কাপ ধরতে অসুবিধা হবে। কফি র কাপ এ চুমুক দিয়েই বেরিয়ে পড়লাম 'থামবি' এর উদ্দেশ্যে।


ও বলতে ভুলেই গেছি - আমরা একটা গাড়ি ভাড়া নিয়েছি, সেই এনজিপি স্টেশন এ নামা থেকেই আমাদের সঙ্গে আছে। গাড়ির ড্রাইভার 'অনিল গৌতম'। প্রথম টা চুপ ই ছিল কিন্তু পরে জিজ্ঞাসা করতে জানতে পারলাম রংলি এলাকায় ওর বাড়ি। যতবার ই পাহাড়ে এসেছি একটা জিনিস খুব ই 'কমন'- এখানে প্রায় সব ড্রাইভাররা গাড়িতে পুরোনো হিন্দি গান চালিয়ে দেয় - এক পাশে তিস্তা উপভোগ করতে করতে আর সেই সব গান শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। আহা সিলেরিগাঁও এর এক সৌন্দর্য আবার এখানকার এক অন্য রকম আকর্ষণ। অনেক আঁকা-বাঁকা বরফে ঢাকা পথ পেরিয়ে এসেগেছি 'থামবি ভিউ পয়েন্ট' এ। এগারো হাজার দুশো ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছি! জমে যাচ্ছি প্রায় বললেই চলে, এখন থেকে দারুন কাঞ্চনজঙ্ঘার 'ভিউ' পাওয়া যাচ্ছে। বরফ হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ ছবি তোলার পর, অসার হাতে আরেকটু উঠে গিয়ে দেখতে পেলাম একটা ছোট্ট ঘর সেখানেই চা বানাচ্ছে আর কয়েকজন পর্যটক আছ। যারা আমাদের পাশের ঘর টায় ছিল তারা এখন থেকে আরো অনেকটা উচ্চতায় অবস্থিত 'কুপুপ এলিফ্যান্ট লেক' এর জন্য রওনা দিল। মা এর এক কালে খুব ঠান্ডা লাগার ধাত ছিল তাই আমরা আর সেখানে গেলাম না, এমনিতেও সময় কম ছিল, আমাদের 'ঋষিখোলা' র জন্য বেরিয়ে পড়তে হবে। আবহাওয়ার অদ্ভুত পরিবর্তন- হঠাৎ ঝলমলে রোদ সরে গেলো, জায়গা করে দিল ঘন কুয়াশার।


অনিল ডাকতে শুরু করলো 'অভি নেহি আওগে তো বহত লেট হো জায়েগা!' বাবার ছবি তোলার জন্য অনেক টা দেরি হয়ে গেল। যদিও আমরাও তাড়া দিইনি, এই পরিবেশ উপভোগ করাই আনন্দের! 

আপাতত চললাম। অনেক রাত হয়ে গেছে, তাও লিখে যাচ্ছি। বাকি দুজন ঘুমোচ্ছে। এখন আমি ট্রেন এ কিন্তু! অনেক কষ্ট নিয়ে পাহাড় থেকে আবার বাড়ি ফেরার পথে, পরের দিন থেকে আমার দশমের ক্লাস শুরু।


✍ সোমশুভ্র

No posts

Comments

No posts

No posts

No posts

No posts